দিল্লী-6 মুভি রিভিউ

Leave a Comment
সিনেমার নাম: দিল্লী-6 (2009)
ক্যাটাগরি: ড্রামা
পরিচালক: রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরা
অভিনয়: সোনম কাপুর , অভিষেক বচ্চন, ওয়াহিদা রহমান, ঋষি কাপুর, ওম পুরি, দিব্যা দত্ত, অতুল কুলকার্নি, প্রেম চোপড়া, অদিতি রাও হায়দারি, বিজয় রাজ, অমিতাভ বচ্চন, সুপ্রিয়া পাঠক ইত্যাদি। 
রেটিং: 4.5/5

                                    দিল্লী-6

লকডাউন এ অনেকে বাড়ি বসে সিনেমা দেখছেন, কারণ এমনি সময়, সময়ের অভাবে তা হয়না, এখন অনেক সময় তাই সিনেমা দেখা যায়। তো আমি তাই আপনাদের সিনেমার রিভিউ দেব। উপরে দেখে বুঝেই গেছেন আমি 2009 এর দিল্লী-6 এর উপর। চলুন শুরু করা যাক।

2009 এর সিনেমা, এখনো দেখে পুরোনো মনে হয়না, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট রিলেটাবল। এক newyork এর NRI রোশান( অভিষেক বচ্চন) তার অসুস্থ ঠাকুমাকে( ওয়াহিদা রহমান) নিয়ে দেশে ফেরে কারণ ঠাকুমার ইচ্ছা জীবনের শেষ দিনগুলো দেশের বাড়িতে কাটবে, দিল্লীতে। সেখানে তাদের প্রতিবেশীরা তাদের পরিবারের মতোই মনে করে, তার মধ্যে আছে পাশের বাড়ির দুই ভাই, তাদের দুজনের বউ, তাদের অবিবাহিতা বোন, এবং বড় ভাইয়ের মেয়ে মুক্তবিহঙ্গ বিট্টু( সোনম কাপুর) যার স্বপ্ন পরবর্তী ইন্ডিয়ান আইডল হওয়ার। এবং তখনই শুরু হয় এক রহস্যময় 'কালা বান্দর' নামক জীবের উৎপাত এবং তাতে রোশনের জড়িয়ে পড়া।

পরিচালক রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা খুব সুন্দরভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এই ছবিতে খুব সুন্দরভাবে পুরোনো দিল্লী, চাঁদনী চকের বাজার, লাল কেল্লা, সরু গলি, হাভেলি, ঘুড়ি ওড়ানো, গরুর পুজো, রিকশা, জিলিপি-ফুচকা, গেরুয়া বস্ত্র, সাদা ফেজ টুপি, সমাজ, নস্টালজিয়া, সেখানকার মানুষজনদের একজন আমেরিকান NRI এর চোখ দিয়ে দেখিয়েছেন এবং বর্ণনা করেছেন। সিনেমার গল্পের সাথে যেভাবে উপমা সহকারে রামলীলা বর্ণনা করা হয়েছে সেটাও প্রশংসার দাবী রাখে। মূল বিষয়বস্তু সাম্প্রদায়িক সংঘাত, প্রত্যেক সম্প্রদায়ই রোশনকে প্রথমে আপন করলেও পরে প্ররোচনায় সবাই ত্যাগ করে কারণ তার বাবা হিন্দু মা মুসলমান, তাই সে দুধর্মেরই অর্ধেক অর্ধেক, এবং দু ধর্মকেই পালন করে। এর সাথে কাস্ট সিস্টেম, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধতে প্ররোচনা দেওয়া রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা, তাতে ইন্ধন দেওয়া মিডিয়া, মন্দির-মসজিদ সংঘাত ইত্যাদি সমাজের বিভিন্ন খারাপ দিক তুলে ধরা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে এই সিনেমা। এখানে মামদু মক্কা মদিনা আর হনুমান উভয়েই বিশ্বাস করে কিন্তু কিভাবে প্ররোচনায় তার মিষ্টির দোকান নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং সে হিংস্র হয়ে যায় দেখা যায়। 

এটা অভিষেক বচ্চনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয়, সোনম কাপুরকেও সাধারণ বাড়ির মেয়ে হিসাবে দেখা যায়। এছাড়া দিব্যা দত্ত, ঋষি কাপুর, বিজয় রাজ, ওম পুরি সবার অভিনয় প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু আমার মতে ওয়াহিদা রহমানের অভিনয় সবচেয়ে সেরা। এবং অথিতি অভিনেতা হিসেবে অমিতাভ বচ্চনও বেশ ভালো। 

এই সিনেমার গান নিয়ে আলাদা করে বলতেই হয়। এ.আর. রহমানের সংগীত পরিচালনা এই সিনেমার প্রতি মুহূর্তকে জীবন্ত করে তুলেছে। তার মন্দির-মসজিদ নিয়ে গান, 'মাসাকালি' নামে এক পায়রাকে নিয়ে গান, 'রেহনা তু' যেন দিল্লী শহরকেই বলা হচ্ছে। সবগান নিয়ে এই এলবামটাই হিন্দি সিনেমার গানের জগতের দৃষ্টান্ত। এর সাথে এর কথা বা লিরিক্স।

প্রচুর উপমার সাহায্যে বেশ কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে দর্শকদের। চাইলে দেখে নিতেই পারেন সিনেমাটা এই লকডাউনে। ইউটিউবে বা গুগল প্লে তে সিনেমা কিনে পারেন, নাহলে নেটফ্লিক্স আর আমাজন প্রাইমে পেয়ে যাবেন সিনেমাটা। 

 উইকিপিডিয়ার লিংক:
https://en.wikipedia.org/wiki/Delhi-6

নমস্কার, ভালো থাকবেন। 




If you like this article share this in your social sites
Next PostNewer Post Previous PostOlder Post Home

0 Comments:

Post a comment