জন্মাষ্টমী কবে? জন্মাষ্টমীর ইতিহাস। শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম। জন্মাষ্টমী ২০১৯

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মের একটি পবিত্র উৎসব জা কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, কৃষ্ণ জয়ন্তী, গোকুলাষ্টমী নামেও পরিচিত। এই উৎসব দেবকী এবং বাসুদেবের অষ্টম পুত্র  শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে পালন করা হই। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তীথিতে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়। ভগবান কৃষ্ণ বাঁশি বাজাতে আর দই মাখন খেতে খুব পছন্দ করেন। ভগবান কৃষ্ণকে তার ভক্তরা ভালোবেসে অনেক নামে ডেকে থাকেন। শ্রী কৃষ্ণের  ১০৮ শত নাম আছে।
sree Krishna janmashtami | শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ২০১৯


শ্রীকৃষ্ণের ১০৮ শত নাম কি কি? 



শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১।
যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।২।
উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।৩।
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল।৪।
সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।৫।
শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল-রাজা ভাই।৬।
ননীচোরা নাম রাখে জতেক গোপীনি।৭।
কালসোণা নাম রাখে রাধা বিনোদিনী। ৮।
কুব্জা রাখিল নাম পতিত পাবন হরি।৯।
চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন-বংশীধারী।১০।
অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।১১।
কৃষ্ণ নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া।১২।
অণ্বমুনি নাম রাখে দেবচক্রপাণি।১৩।
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী।১৪।
গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।১৫।
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ন।১৬।
পুরন্দর নাম রাখে শ্রীগোবিন্দ।১৭।
দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।১৮।
সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন।১৯।
ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন।২০।
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন-সুধীর।২১।
পশুপতি নাম রাখে গরুর মহাবীর।২২।
যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব ষদুবর।২৩।
বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গালের ঠাকুর।২৪।
বাসুকি রাখিল নাম দেব সৃষ্টি স্থিতি।২৫।
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথী।২৬।
নারদ রাখিল নাম ভক্ত-প্রাণধন।২৭।
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ।২৮।
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথী।২৯।
জাম্ববতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি।৩০।
বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।৩১।
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার।৩২।
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।৩৩।
পঞ্চমুখে রামনাম গান ত্রপুরারি।৩৪।
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।৩৫।
প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারী।৩৬।
বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মোনহর।৩৭।
বিশ্বাবসু নাম রাখে নবজলধর।৩৮।
সম্বর্ত্তক রাখে নাম গোবর্দ্ধনধারী।৩৯।
প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী।৪০।
অদিতি রাখিল নাম আরতি-সূদন।৪১।
গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জ্জুন।৪২।
মহাযোদ্ধা নাম রাখে ভীম মহাবল।৪৩।
দয়ানিধি রাখে নাম দরিদ্র সকল।৪৪।
বৃন্দাবন চন্দ্র নাম রাখে বৃন্দাদূতী।৪৫।
বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি।৪৬।
বাণীপতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।৪৭।
লক্ষীপতি রাখে নাম সুমন্ত্র সারথি।৪৮।
সন্দীপনি নাম রাখে দেব অন্তর্য্রামী।৪৯।
পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী।৫০।
পদ্মযোনি নাম রাখে অনাদির আদি।৫১।
নট-নারায়ন নাম রাখিল সম্বাদি।৫২।
হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।৫৩।
ললিতা রাখিল নাম দুর্ব্বাদলশ্যাম।৫৪।
বিশাখা রাখিল নাম  অনঙ্গমোহন।৫৫।
সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রী বংশী বদন।৫৬।
আয়ান রাখিল নাম ক্রোধ নিবারণ।৫৭।
চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন।৫৮।
জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি।৫৯।
গোপিকান্ত নাম রাখে সুদাম-ঘরণী।৬০।
ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।৬১।
দুর্ব্বাসা রদখেন নাম অনাথের নাথ।৬২।
রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী।৬৩।
সর্ব্ব-যঞ্জেশ্বর নাম রাখেন শিবানী।৬৪।
উদ্ধর রখিল নাম মিত্র-হিতকারী।৬৫।
অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী।৬৬।
গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস।৬৭।
সর্ব্ববেত্তা রাখে নাম দ্বৈপায়ণ ব্যাস।৬৮।
অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।৬৯।
সুরলোক রাখে নাম অখিলের সার।৭০।
বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।৭১।
স্বর্গবাসী রাখে নাম দেব পরাৎপর।৭২।
পুলোমা রাখেহ নাম অনাথের সখা।৭৩।
রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা।৭৪।
চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি-দমন।৭৫।
পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন।৭৬।
কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।৭৭।
ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ-শশধর।৭৮।
সুমালী রাখিল নাম পুরুষ-প্রধান।৭৯।
পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ-প্রাণ।৮০।
রজকিনী নাম রাখে নন্দের-দুলাল।৮১।
আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের-গোপাল।৮২।
দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।৮৩।
জ্যোতির্ম্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি।৮৪।
অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্র
গৌতম রদখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর।৮৬।
মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত।৮৭।
জ্ঞানাতীত নাম রাখে সৌনকাদি সুত।৮৮।
রুদ্রগণ নাম রাখে দেব-মহাকাল।৮৯।
বসুগণ রাখে নাম ঠাকুর দয়াল।৯০।
সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন।৯১
সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন।৯২
ভাগুরি রাখিল নাম অগতির গতি।৯৩
মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি।৯৪।
শুক্রাচার্য রাখে নাম অখিল-বান্ধব।৯৫।
বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব।৯৬।
যদুগণ রাখে নাম যদুকুলপতি।৯৭।ততততত
অশ্বিনী কুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি।৯৮।
অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারযণ।৯৯।
সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।১০০।
পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমর-ভ্রমরী।১০১।
ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচরী।১০২।
বঙ্কচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমমঞ্জরী।১০৩।
মাধুরি রাখিল নাম গোপ-মনোহারী।১০৪।
মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্ট-পুরণ।১০৫।
কুটিলা রাখিল নাম মদন-মোহন।১০৬।
মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মবন্ধ-নাশ।১০৭।
ব্রজবধূ নাম রাখে পূর্ণ-অভিলাষ।১০৮।

কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী কবে | জন্মাষ্টমী ২০১৯


ভগবান শ্রী বিষ্ণুর অষ্টম অবতার মাতা দেবকীর গর্ভে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন সেই নিয়ম অনুসারে জন্মাষ্টমীর শুভ সময় ২৩ আগষ্ট  রাত ১২:০৮ মিনিটে থেকে ০১:০৪ মিনিট পর্যন্ত। জন্মাষ্টমী উৎসব পালন করা হবে ২৪ আগষ্ট  ২০১৯ শনিবার।

জন্মাষ্টমীর গুরুত্ব

অত্যাচারী রাজা কংসের রাজত্বে মথুরাবাসীর দুঃখের সীমা ছিল না। বোন দেবকীর সঙ্গে বাসুদেবের বিয়ের সময় আকাশ ভেঙে শোনা যায় দৈববাণী। দেবকীর অষ্টম গর্ভে জন্মানো সন্তান কংসকে হত্যা করে উদ্ধার করবে মথুরাবাসীকে। দৈববাণী শুনে দেবকী, বাসুদেবকে সেই মুহূর্তেই কারাগারে বন্ধ করেন কংস। দ্বাপর যুগে মর্ত্যে আবির্ভাব বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণের। কারাগারে দেবকীর ষষ্ঠ সন্তানকেও বাসুদেব কারাগারে হত্যা করার পর সপ্তম সন্তান মারা যায় গর্ভেই। কথিত আছে এই সপ্তম সন্তানই বৃন্দাবনে রোহিনীর গর্ভে বলরাম রূপে জন্মগ্রহণ করেন। অষ্টম গর্ভে কৃষ্ণের জন্মের পর বাসুদেব দেবানুকূল্যে শ্রাবণের ঝড়, বৃষ্টি কবলিত রাতে শিশু কৃষ্ণকে বৃন্দাবনে নন্দরাজ, যশোদার কাছে দিয়ে আসেন। কৃষ্ণকে মাথায় নিয়ে যমুনা পারপারের সময় শেষনাগ শিশু কৃষ্ণকে রক্ষা করেন দুর্যোগের হাত থেকে। বৃন্দাবনে যশোদার সদ্যোজাতের সঙ্গে কৃষ্ণকে বদলে দিয়ে আসেন। দেবকীর কোলে যশোদার সদ্যোজতকে দেখে কংস তাকে বধ করতে উদ্যত হলে শূন্যে মা দুর্গার রূপ ধারণ করেন সেই সদ্যোজাত কন্যা। শোনা যায় দৈববাণী, কংসকে হত্যা করে মথুরাবাসীকে উদ্ধার করতে কৃষ্ণ পৃথিবীকে আবির্ভূত হয়েছেন।

জন্মাষ্টমীর ইতিহাস  


শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই, মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে। কৃষ্ণ বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম পুত্র। তাঁর পিতামাতা উভয়েই যাদববংশীয়। দেবকীর দাদা কংস, তাঁদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তাঁর মৃত্যু হবে। এই কথা শুনে তিনি দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং তাঁদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তাঁর সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে জন্মরাত্রেই দৈবসহায়তায় কারাগার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বসুদেব তাঁকে গোকুলে তাঁর পালক মাতাপিতা যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন। কৃষ্ণ ছাড়া বসুদেবের আরও দুই সন্তানের প্রাণরক্ষা হয়েছিল। প্রথমজন বলরাম যিনি বসুদেবের প্রথমা স্ত্রী রোহিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং সুভদ্রা বসুদেব ও রোহিণীর কন্যা, যিনি বলরাম ও কৃষ্ণের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন।

শ্রীকৃষ্ণ অন্তরযামী তার কৃপা লাভের জন্য অবশ্যই সকলের সাথে শেয়ার করুন আর কমেন্টে হরে কৃষ্ণ লিখুন।
Previous
Next Post »